4. উন্মাদনার ড্যাশবোর্ড: GDP এবং অর্থবহতার সংকট
"যা গোনা যায় তার সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর যা গুরুত্বপূর্ণ তার সবকিছু গোনা যায় না।" —উইলিয়াম ব্রুস ক্যামেরন
কল্পনা করুন, আপনি এক প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্য দিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ চালাচ্ছেন। ডানায় আগুন জ্বলছে, আর বিমানটি নাক নিচু করে সোজা নেমে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি শান্ত। আপনি ইনস্ট্রুমেন্ট প্যানেলের দিকে আঙুল তোলেন। "চিন্তা করবেন না," আশ্বস্ত করার সুরে বলেন। "কেবিনের চাপ স্থিতিশীল, আর বিমানের ভেতরের সিনেমাটাও নিখুঁতভাবে চলছে। আমাদের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী সব ঠিক আছে।"
আধুনিক অর্থনীতির অবস্থা ঠিক এটাই। আমরা এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঝড়ের মধ্য দিয়ে একটি সভ্যতাকে উড়িয়ে নিয়ে চলেছি, আর পথ দেখাচ্ছে এমন এক ড্যাশবোর্ড, যা কেবল ভাঙা নয়, অপরাধপ্রবণভাবে উন্মাদ। সেই ড্যাশবোর্ডের নাম মোট দেশজ উৎপাদন, GDP।
GDP আমাদের অর্থনীতির ধ্রুবতারা। এটাই সেই সংখ্যা, যা পৃথিবী শাসন করে। প্রতিটি সরকার এর পিছনে ছোটে, প্রতিটি নীতি একে লক্ষ্য করে, প্রতিটি সংবাদ প্রতিবেদন রুদ্ধশ্বাসে এর ত্রৈমাসিক পরিবর্তন ঘোষণা করে। আমরা এমন এক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়েছি, যেখানে একটিমাত্র ত্রুটিপূর্ণ সংখ্যা জাতিগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে। ১৯৩০-এর দশকে যিনি এই মাপকাঠি উদ্ভাবন করেছিলেন, সেই সাইমন কুজনেৎস জীবনের বাকিটা সময় আমাদের সতর্ক করে গেছেন, একে যেন কোনো জাতির কল্যাণের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। আমরা তাঁকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছি।
ফল এমন এক পৃথিবী, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মাপকাঠি সংকট দেখাচ্ছে, অথচ যে একটিমাত্র মাপকাঠি আমরা অনুসরণ করি, সেটা দেখাচ্ছে সাফল্য। এটাই আমাদের উন্মাদনার ড্যাশবোর্ডের গল্প।
বিকৃতির প্রদর্শশালা: GDP-র এক নির্দেশিত সফর
আধুনিক অর্থনৈতিক পরিমাপ নামের আয়নাঘরটা আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাই। প্রতিটি প্রদর্শনী আগেরটির চেয়ে বেশি বীভৎস, আর প্রতিটিকেই গোনা হয় "প্রবৃদ্ধি" হিসেবে।
প্রদর্শনী A: ঘূর্ণিঝড়ের অর্থনীতি। একটি ঘূর্ণিঝড় যখন একটা শহরকে বিধ্বস্ত করে, সেটা এক মানবিক ট্র্যাজেডি। কিন্তু GDP-র কাছে সেটা এক প্রণোদনা প্যাকেজ। ধ্বংস নিজে নথিভুক্ত হয় না। কিন্তু তার পরের উন্মত্ত কর্মকাণ্ড, পুনর্নির্মাণ, বিমার অর্থপ্রদান, জরুরি পরিষেবা, এসব মিলে বহু বিলিয়ন ডলারের এক অপ্রত্যাশিত লাভ। GDP-র যুক্তিতে, সম্ভাব্য সেরা বছর হবে সেটাই, যে বছর প্রতিটি শহর ধ্বংস হবে আর তারপর আবার গড়া হবে।
প্রদর্শনী B: ক্যানসারের রমরমা। একজন সুস্থ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা অর্থনীতিতে সামান্যই অবদান রাখেন। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়া একজন মানুষ? GDP-র জন্য সেটা এক অপ্রত্যাশিত লাভ। ট্র্যাজেডির পরে যে নিষ্ঠুর লেনদেনগুলো হয়, সেগুলো ভাবুন:
- রোগনির্ণয়ের পরীক্ষা (১০,০০০ ডলার)
- অস্ত্রোপচার (১,০০,০০০ ডলার)
- কেমোথেরাপি (১,৫০,০০০ ডলার)
- হাসপাতালে থাকা (৭৫,০০০ ডলার)
- ওষুধ (৪০,০০০ ডলার)
ক্যানসারের একটিমাত্র ঘটনা GDP-তে ৪,২৫,০০০ ডলারের লাভ তৈরি করতে পারে।
এই যুক্তিতে কার্সিনোজেন অর্থনৈতিক উদ্দীপক। তামাক কোম্পানিগুলো কেবল মানুষ মারছিল না; তারা GDP-র গুণক তৈরি করছিল। আমরা এমন এক অর্থনীতি গড়েছি, যার কাঠামোই প্রণোদনা দেয় অসুস্থতা সামলাতে, স্বাস্থ্য সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিরোধ এক অর্থনৈতিক লোকসান; নিরাময় হবে এক অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
প্রদর্শনী C: বিবাহবিচ্ছেদ-শিল্প চক্র। একটি সুখী, স্থিতিশীল পরিবার, যারা নিজেদের সন্তান নিজেরাই মানুষ করে আর নিজেদের সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়, GDP-তে প্রায় কিছুই যোগ করে না। কিন্তু সেই পরিবার যখন ভেঙে যায়, অর্থনীতিতে জোয়ার আসে। হঠাৎ করে একটার বদলে দুটো সংসার চালাতে হয়, আবাসন আর বিদ্যুৎ-জল-গ্যাসের ভোগ দ্বিগুণ হয়ে যায়। থেরাপিস্ট নিয়োগ করা হয়। উকিলদের টাকা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কেবল বিবাহবিচ্ছেদের উকিলেরাই গত বছর GDP-তে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি যোগ করেছেন। ভাঙা সংসারের মানবিক ট্র্যাজেডি জাতীয় খতিয়ানে নথিভুক্ত হয় নিট ইতিবাচক হিসেবে।
প্রদর্শনী D: পরিকল্পিত অপ্রচলনের জাদুঘর। আপনার ফোনটা এক দশক টেকার মতো করে বানানো যেত। Apple নিশ্চিত করে যে তা টিকবে না। প্রতিটি বাধ্যতামূলক আপগ্রেড, রহস্যজনকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিটি ব্যাটারি, আপনার পুরোনো যন্ত্রকে ধীর করে দেওয়া প্রতিটি সফটওয়্যার আপডেট GDP-র এক বিজয়। টেকসই পণ্য বানানো অর্থনৈতিক নাশকতা। বদলে ফেলার জন্যই নকশা করা পণ্য বানানো হলো প্রবৃদ্ধি।
পর্যবেক্ষক প্রভাব: যখন পরিমাপ বাস্তবতাকে ধ্বংস করে
আসল উন্মাদনা কেবল এই নয় যে GDP ভুল জিনিসগুলো গোনে। আসল উন্মাদনা হলো, সেগুলো গোনার কাজটাই আমাদের বাস্তবতাকে আরও খারাপ করে দেয়। এটাই গুডহার্টের নিয়ম (Goodhart's Law): "যখন কোনো পরিমাপ লক্ষ্যে পরিণত হয়, তখন তা আর ভালো পরিমাপ থাকে না।" অর্থনীতিতে এটা কোনো ত্রুটি নয়; এটাই কেন্দ্রীয় চালিকানীতি। আমরা এক শতাব্দী ধরে GDP-কে লক্ষ্য করেছি, আর তা করতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছি সেই অপরিমেয় গুণগুলো, যা আসলে জীবনকে বেঁচে থাকার যোগ্য করে তোলে।
ভাবুন এনগেজমেন্টের ফাঁদের (Engagement Trap) কথা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সাফল্যের একটা মাপকাঠি দরকার ছিল, তাই তারা বেছে নিল "এনগেজমেন্ট"। অ্যালগরিদমগুলো, মেধাবী আর অক্লান্ত অপ্টিমাইজার, দ্রুত শিখে ফেলল যে ক্ষোভের মতো এনগেজমেন্ট আর কিছুই বাড়ায় না। রাগ আঠালো। ভয় নেশা ধরায়। আর তাই, একটা মাপকাঠি ছোঁয়ার নামে প্ল্যাটফর্মগুলো হয়ে উঠল ক্রোধের যন্ত্র, একটা স্প্রেডশিটের সংখ্যা অপ্টিমাইজ করতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলল সমাজের বুনন। আমরা এনগেজমেন্টকে লক্ষ্য করলাম, আর ধ্বংস করলাম সংযোগ। ড্যাশবোর্ড কেবল আবহাওয়ার খবর দেয়নি; আবহাওয়াটাই তৈরি করেছে।
প্রাচুর্যের প্যারাডক্স: যখন সুখবরই দুঃসংবাদ
আমাদের ড্যাশবোর্ডের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ত্রুটি হলো সুখবরকে প্রক্রিয়া করার সম্পূর্ণ অক্ষমতা। আমাদের ব্যবস্থার নকশা দুষ্প্রাপ্য পণ্যের লেনদেন মাপার জন্য। তাই কাঠামোগতভাবেই সে প্রাচুর্যের প্রতি অন্ধ। যখন কোনো কিছু প্রচুর আর বিনামূল্যের হয়ে যায়, আমাদের ড্যাশবোর্ড কেবল তার মূল্য দেখতে ব্যর্থ হয় না; তার আগমনকে নথিভুক্ত করে এক নেতিবাচক ঘটনা হিসেবে।
হিউম্যান জিনোম প্রকল্প এর এক নিখুঁত উদাহরণ। আমাদের DNA-র অনুক্রম নির্ণয়ের এই সরকারি অর্থায়নের প্রচেষ্টায় খরচ হয়েছিল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, আর সময় লেগেছিল এক দশকেরও বেশি। কিন্তু প্রাপ্ত ডেটাকে জনসাধারণের সম্পদ করে দিয়ে এটি আনুমানিক এক ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মূল্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। GDP-তে এর অবদান? ঋণাত্মক। এটা জিনগত তথ্যকে সস্তা করে দিয়েছিল, মালিকানাধীন ডেটার ওপর দাঁড়ানো ব্যবসায়িক মডেলগুলোর ভিত নাড়িয়ে দিয়ে।
এখানে AI-এর আয়না নির্মমভাবে স্পষ্ট। একজন AI প্রকৌশলী একে বলবেন ভুল "লস ফাংশন" (loss function) ব্যবহার করা। লক্ষ্য-চিত্রের সঙ্গে পিক্সেলের পার্থক্য ন্যূনতম করার জন্য প্রশিক্ষিত একটি মডেল হয়তো একটি সুন্দর চিত্রকর্মের বদলে একটা ঝাপসা ধূসর বর্গক্ষেত্র তৈরি করবে। আমরা আমাদের সভ্যতাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এক ত্রুটিপূর্ণ লস ফাংশনে, আর তৈরি করছি এক ঝাপসা ধূসর পৃথিবী।
অর্থবহতার সংকট: আমরা যা গুনি তার মূল্য
আমাদের ড্যাশবোর্ডের সবচেয়ে বিধ্বংসী পরিণতি অর্থনৈতিক নয়, আত্মিক। এক শতাব্দী ধরে আমরা সমাজ পরিচালনা করেছি GDP সর্বোচ্চ করার জন্য। তা করতে গিয়ে আমরা এমন এক পৃথিবী তৈরি করেছি, যা লেনদেনে সমৃদ্ধ আর অর্থবহতায় নিঃস্ব। অপ্টিমাইজ করতে করতে আমরা পৌঁছে গেছি এক সমষ্টিগত আত্মিক অসুখে।
বন্ধুত্বের মন্দা। মানুষ সামাজিক প্রাণী; বিকশিত হতে তার দরকার গভীর, বিশ্বস্ত সম্পর্ক। কিন্তু গভীর বন্ধুত্ব GDP-র জন্য এক কৃষ্ণগহ্বর; তা কোনো লেনদেন তৈরি করে না। তাই আমাদের অর্থনীতি পরিকল্পিতভাবে তার জায়গায় বসিয়েছে টাকায় রূপান্তরিত বিকল্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের "বন্ধু" আগের চেয়ে বেশি, অথচ বিপদে ফোন করার মতো মানুষ আগের চেয়ে কম। মানবিক সংযোগের ধসকে টাকায় রূপান্তর করে অর্থনীতি বাড়ে।
উদ্দেশ্যের শূন্যতা। আমাদের বলা হয়, আমাদের মূল্য আসে আমাদের "চাকরি" থেকে, আমাদের উৎপাদনশীল আউটপুট থেকে। অথচ আধুনিক, উচ্চ বেতনের চাকরিগুলোর এক বিরাট অংশ এমন ভূমিকা, যেগুলো সম্পর্কে কর্মীরা নিজেরাই জানেন যে পৃথিবীতে সেগুলোর কোনো অর্থবহ অবদান নেই। আমরা এমন এক অর্থনীতি তৈরি করেছি, যা কর্পোরেট আমলাতন্ত্রে কাগজ নাড়াচাড়ার জন্য মোটা টাকা দেয়, অথচ শিক্ষক আর পরিচর্যাকারীদের দেয় কোনোমতে টিকে থাকার মজুরি। আমরা এমন এক ব্যবস্থা গড়েছি, যা অর্থহীনকে পুরস্কৃত করে আর গভীরকে শাস্তি দেয়।
মনোযোগের বিনাশ। একুশ শতকের নতুন তেল হলো মানুষের চেতনা। আমাদের মনোযোগ দখল করে তাকে টাকায় রূপান্তরের জন্য গড়ে উঠেছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের গোটা শিল্প। ফল এমন এক জনগোষ্ঠী, যাদের গড় মনোযোগের স্থায়িত্ব একটা গোল্ডফিশের সমান, যারা সারাক্ষণ অস্থির, আর স্নায়বিকভাবে গভীর চিন্তায় অক্ষম। চেতনার এই খণ্ডবিখণ্ড হওয়া আমাদের প্রজাতির জন্য এক বিপাকীয় বিপর্যয়, কিন্তু GDP-র কাছে "মনোযোগ অর্থনীতি" প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বলতম খাতগুলোর একটি। আমরা মানুষের মনকে খোলামুখ খনির মতো খুঁড়ে চলেছি, আর তাকে বলছি প্রগতি।
এটা কোনো অনুভূতি নয়; এটা এক পরিসংখ্যানগত সত্য। সরকারি গল্প যখন সমৃদ্ধির কথা বলে, মানুষের গল্প তখন লেখা হয় এক ভিন্ন খতিয়ানে। এ গল্প শেয়ারের দামে বলা হয় না, বলা হয় সেই ৪৭ শতাংশ আমেরিকানের নীরব হতাশায়, যারা এখন বলেন যে তারা তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছেন। এ গল্প মাপা হয় ২০২০ সাল থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রেসক্রিপশনে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধিতে, আর নারীপ্রতি ১.৬-এ ধসে পড়া জন্মহারে, যে সংখ্যা সভ্যতার অবক্ষয়ের সংকেত দেয়। এ এক মোহভঙ্গের গল্প, যেখানে সাম্প্রতিক কলেজ স্নাতকদের ৫২ শতাংশ এমন চাকরিতে যেতে বাধ্য হন, যার জন্য তাদের ডিগ্রির প্রয়োজনই নেই, আর যেখানে আমাদের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা নেমে এসেছে রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন স্তরে।
অন্ধের মতো ভবিষ্যতে উড়ে চলা
এই ড্যাশবোর্ডই বুদ্ধিমত্তার বিপর্যাসের (Intelligence Inversion) প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়ার পথ দেখাবে।
AI যখন আইনি গবেষণা স্বয়ংক্রিয় করবে আর আইনি পরামর্শকে প্রায় বিনামূল্যের করে দেবে, ড্যাশবোর্ড দেখাবে আইনি খাত ধসে পড়ছে, আর আমরা আতঙ্কিত হব। AI শিক্ষকেরা যখন পৃথিবীর প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে বিশ্বমানের, ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা দেবে, ড্যাশবোর্ড দেখাবে শিক্ষা খাত ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে, আর আমরা তাকে "বাঁচানোর" চেষ্টা করব। AI-চালিত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা যখন জনগোষ্ঠীকে আরও সুস্থ করে তুলবে, ড্যাশবোর্ড দেখাবে স্বাস্থ্যসেবা খাত সংকুচিত হচ্ছে, আর আমরা মন্দা ঘোষণা করব।
আমরা এক গরম-বাতাসের বেলুনের যন্ত্রপাতি নিয়ে একটা ৭৪৭-কে ঝড়ের ভেতরে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রযুক্তি পৃথিবীকে যত ভালো করবে, আমাদের মিটারগুলো তত খারাপ দেখাবে। GDP আঁকড়ে থাকা আর কেবল এক একাডেমিক ভুল নয়; এ এক সভ্যতা-পর্যায়ের আত্মঘাতী চুক্তি।
আরোগ্যের প্রথম ধাপ হলো স্বীকার করা যে ড্যাশবোর্ডটা কেবল ভুল নয়, উন্মাদ। দ্বিতীয় ধাপ হলো নতুন যন্ত্র তৈরি করা। এমন যন্ত্র, যার নকশা আমরা কত দ্রুত পৃথিবীকে ভোগ করছি তা মাপার জন্য নয়, বরং পৃথিবীকে পুনরুজ্জীবিত করার আমাদের সক্ষমতা অনুসরণ করার জন্য। MIND ড্যাশবোর্ড গড়ার সময় এসেছে।